বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান দেখাতে জানে না, তারাই নব্য ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখছে। দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ সেই দুঃস্বপ্ন কখনও বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

ড. আযাদ আরও বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ জারি করতে হবে। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের দিন শেষ — এটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশ। ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে কেউ এই দেশে রাজনীতি করতে পারবে না।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ ও জাতির কল্যাণে রাজনীতি করতে হলে জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন, তাহলেই দেশের জনগণ আপনাদের স্বাগত জানাবে।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশখালী পৌরসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) পৌরসভার সভাপতি কাউন্সিলর মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় পৌরসভার ঘোনাপাড়া অহনা কনভেনশন হলে মহিলা কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতিকে না বলুন। যারা দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন চায় না, তারাই সংস্কারের বিরোধিতা করছে।”

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “জনগণের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন— মানুষ কী চায়। এই দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। তাই সরকারকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।”

একই দিনে সকালে মহিলা কর্মী সম্মেলন এবং বিকেলে তৃণমূল নির্বাচনী কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম বাহাদুর, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকের হোসাইন, শহর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ছাত্রনেতা কামরুল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ সৈয়দুল হক সিকদার, ঈদগাঁও রশিদ আহমেদ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণের আমির মাস্টার শামিম ইকবাল, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা সিরাজুল হক, মাওলানা ছিদ্দিক নূরী, মাওলানা নুরুল আলম, আব্দুল হক হক্কানী, মাও. ইসমাইল, কক্সবাজার শহর পর্যটন থানা শাখার সেক্রেটারি ছাত্রনেতা আলমগীর সাঈদ, উপজেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা কুতুবউদ্দিন, শ্রমিক নেতা আবদুল খালেক, প্রবাসী নুরুল ইসলামসহ তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ।