এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আজাদ
জীবনী

এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আজাদ

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আজাদ — প্রতিকৃতি
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য

এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আজাদ

এ. এইচ. এম হামিদুর রহমান আজাদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরা সদস্য। ২০০৮ সালে তিনি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী।

জন্ম

১ ডিসেম্বর ১৯৬৫, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার

শিক্ষা

বিএ (অনার্স), এমএ, এম.এম, এলএলবি

ছাত্ররাজনীতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি, ঢাকা মহানগরী সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

রাজনৈতিক দায়িত্ব

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরা সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

সংসদ

সংসদ সদস্য (২০০৮), কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)

সমাজসেবা

প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি, কুতুবদিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজ

জীবন বৃত্তান্ত

এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য নাম। এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ অন্যতম। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, যোগ্যতা, মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

জন্ম :
জাতির এই সাহসী সন্তান ও প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ১৯৬৫ সালের ০১ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত মাওলানা ক্বারী আবদুস সালাম এবং মাতার নাম মৃত আদিমুন্নিছা।

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার :
বিএ (অনার্স), এমএ, এম.এম, এলএলবি।

রাজনৈতিক জীবন :
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ ১৯৭৭ সালে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়দীপ্ত কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। পরবর্তিতে এই সংগঠনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি, ঢাকা মহানগরী সভাপতি, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন। ছাত্র জীবনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা পালন।

১৯৯৫ সালের শেষ দিকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি বৃহত্তর রাজনীতিতে পদার্পন করেন। তিনি ০৭ জানুয়ারি ৯৬ইং তারিখে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সবুজবাগ থানা সভাপতি, মহানগরী প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক কনফেডারেশন অব লেবার (IICL) এর সাংগঠনিক কমিটির সদস্য। বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্ম ও মজলিসে শূরা সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২০০৮ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সংরক্ষণের ভুমিকা রাখতে গিয়ে আওয়ামী ষড়যন্ত্রের শিকার ও গ্রেফতার হন। ২০০০ সালে আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে ২ বার মারাত্মক আহত ও গুলিবিদ্ধ হন। ২০১৮ সালে আবারোও আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন।

পারিবারিক জীবনঃ

এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ ১৯৯৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি চার মেয়ের জনক।

সামাজিক কাজ :

জননেতা এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ রাজনীতিকই নন বরং তিনি একজন খ্যাতিমান সমাজ সেবক, বলিষ্ঠ সংগঠক এবং সফল উদ্যোক্তা। তিনি কুতুবদিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি। একনজরে আমরা এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদের সামাজিক কাজের কিছু অংশ দেখবো।

– কুতুবদিয়ার আল ফারুক মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
– মহেশখালী কালামার ছড়া আদর্শ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য
– কুতুবদিয়া দারুস সালাম কমপ্লেক্স এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
– প্যান ইসলামিক হাসপাতালের চেয়ারম্যান
– দারুস সালাম মডেল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা
– চেয়ারম্যান, আল- আকাবা ফাউন্ডেশন
– প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি, ফররুখ একাডেমী, ঢাকা।
– নির্বাহী পরিচালক, মাস মিডিয়া ফাউন্ডেশন, ঢাকা।
– পাইওনিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান
– ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা, ১৯৯৮ সাল থেকে এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়নে ভূমিকা পালন, বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা প্রদান। ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায়ে এলাকায় কয়েকশত নলকুপ স্থাপন ও স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা পালন, এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রকল্প গ্রহণে ভূমিকা পালন। এলাকার গরীব দুঃখী মেয়েদের বিবাহের ব্যবস্থা গ্রহণে ও গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের এককালীন সাহায্য প্রদানে ভূমিকা পালন। এলাকায় মসজিদ, মক্তব ও অযুখানা নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন।

বিদেশ ভ্রমনঃ

তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা সেমিনারে যোগদানের জন্য জাপান, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। এসব সফরে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ, সেমিনার ও সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান।১৯। প্রকাশিত গ্রন্থাবলী – দুঃশাসনের ২৫ বছর (১৯৭২-১৯৯৫ সাল), দাওয়াতের দ্বীন, গণভিত্তি রচনা ও বাংলাদেশের উপকূলবাসীর বাঁচার অধিকার।