১৪ ফেব্রুয়ারী-২০২০, জুম’আর নামায শেষে আমার মোবাইল সেটে একটি ম্যাসেজ নজরে পড়ে। ম্যাসেজটি পাঠিয়েছিল মোহাম্মদ আলী মিঠু। তার পাঠানো ম্যাসেজে লেখা ছিল, “আমাদের প্রাণপ্রিয় মাওলানা আবদুস সোবহান চাচা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন”। ম্যাসেজটি পড়ে খানিকটা আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়লাম। একটু পর নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে যোগাযোগ শুরু করলাম। প্রথমে আমীরে জামায়াতের সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। তিনি ঢাকার বাহিরে প্রোগ্রামে থাকায় উনার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। মাওলানা আবদুল হালিম ভাইকে পেয়ে গেলাম। দু’জনের মধ্যে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা ও পরামর্শ বিনিময় হলো। কিছুক্ষণ পর হালিম ভাই জানালেন আমীরে জামায়াত এ বিষয়ে সন্ধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন। সন্ধ্যার বৈঠকে যোগদান শেষে রাত ৯টায় বাসায় ফিরার পথে ফোন বেজে উঠল। অপর প্রান্ত থেকে মিঠু জানাল তারা কফিন নিয়ে পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। কফিনের সাথে আমাদের শ্রদ্ধেয় মুরব্বী মাওলানা আবদুস সোবহান সাহেবের মেঝ ছেলে নেছার আহমেদ নান্নু ভাইও যাচ্ছেন। মিঠুর ফোনেই কথা হলো তার সাথে। বাবার মৃত্যুতে সন্তানের শোকের গভীরতা নেছার আহমেদ নান্নু ভাইয়ের কান্না বিজড়িত কণ্ঠে স্পষ্ট হয়ে উঠল। তখন ধৈর্য্য ধারণের পরামর্শ দেয়া ও সমবেদনা প্রকাশ ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। তিনিও দোয়া চেয়ে কথা শেষ করলেন। তখন আমি জানালাম আগামীকাল জানাযার মাঠে দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ্।

সেই রাতটি বড় কষ্টের মধ্যে কেটেছে। ফজর নামাযের পর পরই ঢাকা থেকে রওয়ানা হলাম পাবনার উদ্দেশ্যে। বাদ যোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১টার মধ্যে পৌঁছতে হবে। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে পথ চলছিলাম। এর মধ্যে আমীরে জামায়াতের কল পেলাম। জানতে পারলাম তিনিও জানাযার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। ইতোমধ্যে রফিক ভাই ও হালিম ভাই পৌঁছে গেছেন। সবমিলে মনে হলো এটি শুধু জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সোবহান সাহেবের জানাযা নয়, বরং দীর্ঘ ৮ বছর পর কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের মুক্তমঞ্চে জমায়েত হওয়ার মাহিন্দ্রক্ষণ। তাই মনটা হালকা হলো। এরমধ্যে আমরা টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় এসে পৌঁছালাম। সকালের নাস্তা করার জন্য যাত্রা বিরতি করা হলো। হোটেলে প্রবেশ করতেই ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে সংঘটিত একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা মনে পড়ল। সেদিন সকাল বেলা আমি প্রতি দিনের ন্যায় ঢাকা মহানগরীর অফিসে যাচ্ছিলাম। নির্বাচনী এলাকার কাজ এবং ঢাকার বাহিরে অন্যকোন প্রোগ্রাম না থাকলে সাধারণত আমি পুরানা পল্টনস্থ মহানগরী অফিসে নিয়মিত বসতাম। আওয়ামী সরকার কেন্দ্রীয় অফিসসহ সারাদেশের অফিসগুলোর ন্যায় বর্তমানে এ অফিসটিও অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রেখেছে। সেদিন অফিসে যাওয়ার পথে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান ভাই ফোনে জানালেন আজ সকালে ঢাকা থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে যমুনা সেতুর কাছে পুলিশ মাওলানা আবদুস সোবহান সাহেবের গতিরোধ করেছে। আপনি দ্রুত সেখানে চলে যান। গাড়ী ঘুরিয়ে দ্রুত পথ চলা শুরু করলাম। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছার পুর্বেই পুলিশ উনাকে পাবনা জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। এলেঙ্গার একটি হোটেলে পাবনা জেলার নেতৃবৃন্দের সাথে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করেছিলাম। আজ ৮ বছর পর মাওলানার জানাযা পড়তে যাওয়ার পথে একই হোটেলে যাত্রাবিরতি। এ ৮ বছর সরকার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বর্ষিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানকে রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে এই বৃদ্ধ বয়সে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, যা উপমহাদেশের শত বছরের রাজনীতির ইতিহাসে বিরল ও নজিরবিহীন।

এলেঙ্গা হোটেলে নাস্তার পর আমরা যখন যমুনা সেতু পাড়ি দিচ্ছিলাম তখন ঘড়ির কাটা ৯টার ঘরে। হিসাব করে দেখা গেল আমার হাতে কিছু সময় আছে। তখন মনে পড়ল আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ভাইতো পাবনা জেলার সাথিয়ার মাটিতে শুয়ে আছেন। তৎক্ষাণাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম প্রিয় নেতার কবর জিয়ারতের সুযোগটি কাজে লাগানোর। সাথিয়া পাবনা জেলার একটি বিস্তৃত জনপদ। এ উপজেলার সাথে বেড়ার আংশিক এলাকা নিয়ে সংসদীয় আসন গঠিত। নিজামী ভাই এ আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০১০ সালের ২৯ শে জুন আওয়ামী সরকার একটি মিথ্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ৬ বৎসর মানষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন ভোগের পর ২০১৬ সালের ১১ মে ট্রাইব্যুনালের সাজানো রায়ে তাঁকে ফাঁসি দেয়া হয়। সেই সময় দেশে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাঁর জানাযায় আমি অংশগ্রহণ করতে পারি নাই। এজন্য নিজেকে সব সময় অপরাধী মনে হতো। আজ নিজেকে দায় মুক্ত করার সুযাগ নিতে ছুটে গেলাম সাথিয়া থানার নিভৃত পল্লী মনমথপুরে, যেখানে শহীদ নিজামী ভাইয়ের কবর অবস্থিত। নিজামী ভাইয়ের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে কাজ করত মোহাম্মদ আলী মিঠু। তার বাড়ীও সাথিয়ায়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় অফিসের আইন আদালত বিভাগে দায়িত্ব পালন করে। মিঠুকে সাথিয়ায় কবর জিয়ারতের কথা জানালে মুহুর্তের মধ্যেই সেখানের রাস্তা চেনা এবং লোক দিয়ে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করে। ফলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা আমাদের জন্য সহজ হয়। জাহাঙ্গীর নামক একজন যুবক আমাদের গাইড হিসাবে কাজ করে। তার কাছে জানতে পারলাম নিজামী ভাই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এলাকায় ছিলেন না। রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সে আরো জানালো এ মামলায় যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। এর রহস্য আল্লাহই ভাল জানেন। তবে এলাকার মানুষের ধারণা নিজামী সাহেবের মত নিরাপরাধ ও আল্লাহওয়ালা মানুষের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরিণতি তাদের ভোগ করতে হয়েছে।

সাথিয়ার নিভৃত পল্লী মনমথপুরের একটি সরু রাস্তা কবরস্থান ঘেষে চলে গেছে। আমরা নিজামী ভাইয়ের বাড়ী সংলগ্ন মসজিদের পাশে গাড়ী রেখে পায়ে হেটে কবরস্থানে পৌঁছি। প্রাচীর ঘেরা বিশাল কবরস্থানের দক্ষিনপূর্ব প্রান্তে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও বিশ^ ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। আমরা কয়েকজন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জিয়ারত ও দোয়া সম্পন্ন করি। দোয়ার পরে মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেবের জানাযার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা বহু সংখ্যক নেতা-কর্মীর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। জিয়ারত শেষে আমরা পাবনা শহরের দারুল আমান ট্রাস্টের ময়দানে মাওলানা সোবহান সাহেবের জানাযার পথে পুনরায় রওয়ানা হই।

ওই দিন বেলা প্রায় ১:১৫ মিনিটের দিকে আমরা দারুল আমান ট্রাষ্টের গেইটে পৌঁছি। দারুল আমান ট্রাষ্টের মাঠেই মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেবের জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। এ বিশাল মাঠ কানায় কানায় ভরে গেছে। মাদ্রাসা ভবন, ভবনের ছাদ, চারদিকের রাস্তা ও বাড়ীঘরে কোথাও তিল ধরার ঠাই নেই। এ অবস্থায় রাস্তার মধ্যে গাড়ী রেখে পায়ে হেটে সামনে অগ্রসর হলাম। মূল ফটক থেকে দারুল আমান ট্রাষ্ট পরিচালিত তিন তলা মাদ্রাসা ভবন এবং বিস্তৃত মাঠ। এখানে ইতিমধ্যে লাখো জনতার সমাগম হয়ে গেছে। মাইক থেকে দোয়া-দরুদ ও বক্তব্যের আওয়াজ ভেসে আসছিল। যারাই মাঠে সমবেত হয়েছে তাদের চোখে মুখে প্রচন্ড শোকের ছায়া এবং প্রায় সকলেই আবেগে আপ্লুত অবস্থায় কেউ দাঁড়িয়ে কেউ বসে আছে। জানাযার কফিন মঞ্চের দক্ষিণ পাশের্^ একটি লাশের গাড়ীতে রাখা। তার পাশ দিয়েই দীর্ঘ সারি এবং চলমান দুটি সারিতে লোকজন তাদের শ্রদ্ধেয় নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য অগ্রসর হচ্ছিল। এ দৃশ্য দেখে নিজেও খুব আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়লাম এবং লাইনে দাঁড়িয়ে যখন পিছন থেকে সামনে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিলাম তখন একজন ভাই কফিন দেখার জন্য সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসলো। মরহুম মগফুর মাওলানা আব্দুস সোবহানের কফিন লাশের গাড়িতে শায়িত, কফিনের মুখ খুলে দেয়া হয়েছে, গাড়ির কাঁচের ভিতর থেকে স্পস্টভাবে চেহারাটি জ¦লজ¦ল করছিল নূরের আভায়। সত্যিকারের একজন আল্লাহর মকবুল বান্দা যেন প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন হাস্যজ্জল চেহারায়, মহান রবের সান্যিধ্যে পৌঁছার অপেক্ষায়। তখন কোরআনের সেই আয়াতটি আমার মনে পড়ল:

“হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর”। (সূরা ফজর: ২৭-৩০)

সেখান থেকে যারা কফিন দেখে অতিক্রম করছিল সকলের চোখের পানি এবং অঝোরে কান্না এক অভুতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেছে। নিজের আপনজনকে হারালে যেভাবে বেদনাবিধুর হৃদয়ে আহাজারি করে সেদিন লাশের গাড়ির আশেপাশেই শুধু নয় বরং পুরো মাঠের দৃশ্যই ছিল শোকাহত মানুষের কান্নার রোল। মঞ্চে এবং তার আশেপাশে দেখতে পেলাম মরহুমের সন্তানসহ সারা দেশ থেকে আগত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণ তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মত দেখতে ও তার জন্য দোআ করতে জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন। সেই সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তারা কেউই আত্মীয়তার টানে নয় বরং দ্বীনি সম্পর্কের কারণেই মরহুমের জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। যেমন হাদীসের ভাষায় বলা হয়েছে- ‘যে আল্লাহর জন্যই কাউকে ভালোবাসলো, আল্লাহর জন্যই কাউকে ঘৃণা করল এবং আল্লাহর জন্যই দান করলো, আল্লাহর জন্যই দান করা থেকে বিরত থাকলো সে যেন তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করলো’। সারাদেশের নেতা-কর্মীরা এবং এলাকার জনগণ তাকে কত বেশী ভালোবাসতেন জানাযার সেই দৃশ্য না দেখলে কলমের ভাষায় বুঝানো দুস্কর। মাদ্রাসাটি মাঠের উত্তর ও পশ্চিম দিকে ঘেরা। দক্ষিণ-পশি^ম দিকে রয়েছে একটি মসজিদ। আর মাঠের দক্ষিণ পাশের্^ রয়েছে একটি কলেজ এবং হেলথ সেন্টার। পশ্চিম দিকে আরবী, বাংলা ও ইংরেজী মিডিয়াম মিলে একটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ। অর্থ্যাৎ মাঝখানে মাঠ আর চতুর্দিকে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সামাজিক কর্মকান্ডের একগুচ্ছ সমাহার। এ সবই মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেবের মেধা, শ্রম ও চেষ্টা সাধনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সারাজীবন যে আদর্শ নিজের মনে লালন করতেন এবং মানুষের কল্যাণ সাধন, ইসলামী আদর্শের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তব চিত্র সেখানে ফুটে উঠেছে। যা বাস্তবে না দেখলে অবিশ^াস্য মনে হবে।

মাদ্রাসা ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। অযু করার জন্য একটি কক্ষে প্রবেশ করলে একজন ভাই এসে বললেন, এই কক্ষে বসেই মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেব বিশ্রাম নিতেন এবং এখান থেকেই তিনি বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তখন ২০১২ সালের একটি স্মৃতি আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। সেদিন দক্ষিণবঙ্গে লং মার্চের যাত্রা পথে পাবনার দাশুরিয়া মোড়ে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে ২০ দলীয় জোটের মহাসমাবেশ ছিল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই লং মার্চ এবং মহাসমাবেশে মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেবের সাথে আমাকে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সেই মহাসমাবেশে যোগদানের পূর্বে আমি এই মাদ্রাসায় দুপুরবেলা পৌঁছি এবং সেখানে ওই কক্ষেই মাওলানার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। একসাথে জোহরের নামাজ ও খাওয়া-দাওয়া করে আমরা প্রোগ্রামে গিয়েছি। সেদিন মহাসমাবেশের কারণে রাস্তায় কোন যানবাহন ছিলনা। ফলে পায়ে হেটেই আমরা মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছিলাম। আমার চেয়ে তিনি প্রায় ৩৫ বৎসরের বড় হওয়া স্বত্বেও যেভাবে দৃঢ়কদমে পথ হাটছিলেন। তার সাথে সমান তালে চলতে সত্যিই আমার কষ্ট হয়েছিল। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি দৃঢ়চেতা ও নিবেদিত প্রাণ একজন সৈনিক ছিলেন। তার পথচলা দেখেই আমি তা সেদিন উপলব্দি করতে পেরেছিলাম।

সেদিন ওনার চেম্বারে আলাপ চারিতার এক পর্যায়ে তার এই বহুমুখী সামাজিক কার্যক্রম জানতে চেয়েছিলাম। এত বিশাল আয়োজন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার হাত দিয়ে করিয়েছেন তা বড় সৌভাগ্যের এবং আল্লাহর শুকরিয়ার বিষয়। একজন ব্যক্তির পক্ষে এতো ব্যাপক ভিত্তিক আর্থসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা আমাকে সত্যিই অবিভূত করেছে। এ কথা শুনে তিনি সেদিন বলেছিলেন, সবই মাবুদের ইচ্ছা। তাঁর সাহায্য না আসলে এটা কখনও সম্ভবপর ছিল না। আর বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর বদৌলতে এসব সম্ভব হয়েছে। কারণ আমার মতো কত আব্দুস সোবহান রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। আর আমি জামায়াতে ইসলামী না করলে আমার জায়গাও তাদের মতোই হতো। কিন্তু আমি জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্ব পালন করি বলেই দেশে এবং বিদেশের লোকেরা আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। যার ফলে এ কাজ সম্ভবপর হয়েছে। সুতরাং এটা আমার কোন ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা কৃতিত্ব নয়। এটি আল্লাহর রহমত ও জামায়াতে ইসলামীর বদৌলতে করা সম্ভব হয়েছে। এই কথা শুনে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলাম। সত্যিই যিনি এত কিছু অর্জন ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেকে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মনে উচ্চ আসনে সমাসীন হয়েছেন। তার মধ্যে আমিত্ব ও আত্মম্ভরিতার কোন লেশমাত্র আমি সেদিন দেখতে পাইনি। এ প্রসঙ্গে ওনার অভিমত হলো জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকেই তিনি এ শিক্ষা লাভ করছেন।

নিজের ব্যক্তিগত যোগ্যতার চেয়ে সংগঠনের অবদান এবং ব্যক্তি জীবনে সংগঠনের ভূমিকা তিনি সংক্ষিপ্তভাবে যেভাবে তুলে ধরলেন এটি যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে আমি মনে করি। আমরা যারা ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত তাদের জীবনে এই শিক্ষাই গ্রহণ করা উচিত। ব্যক্তি নয় সংগঠনই সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সংগঠনে এসেই একজন ব্যক্তি দ্বীন ও জনগণের খেদমত করার সুযোগ লাভ করে এবং সংগঠন থেকে বিচ্যুত হলে একজন ব্যক্তির জীবনে তার বিপরীত অবস্থানও তৈরী হতে পারে। বাংলাদেশে কখনও কখনও দুঃখজনকভাবে আমরা এই ধরণের ঘটনা লক্ষ্য করি।

ঐদিন আমরা যোহরের নামাজ আদায় করে জানাজা নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মাঠেই যোহরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবার কেউ কেউ আশে পাশে যোহরের নামাজ আদায় করে জানাজার মাঠে উপস্থিত হয়েছে। প্রায় দুপুর ২ টার সময় আমরা যারা কেন্দ্র থেকে গিয়েছি সকলে আমীরে জামায়াতের নেতৃত্বে মঞ্চে উপস্থিত হলাম। তখন সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হলো। দীর্ঘদিন পর একসাথে নেতৃবৃন্দকে জনসম্মুখে দেখে কর্মীরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে এবং শ্লোগান দেয়ার চেষ্টা করে। তখন আমীরে জামায়াতের হাতের ইশারায় শ্লোগান দেয়া বন্ধ হয়। অত:পর জানাজা পূর্ব আলোচনা শুরু হয়। সেখানে আমীরে জামায়ত ডাঃ শফিকুর রহমান, মরহুমের সন্তান নেছার আহমেদ নান্নু, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। আমীরে জামায়াতের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এবং কর্মী ও উপস্থিত জনতার জন্য প্রেরণাদায়ক। বক্তব্য প্রদানকালে আমীরে জামায়াত তার দীর্ঘদিনের ইসলামী আন্দোলনের একজন অভিভাবক ও সহকর্মীকে হারিয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। তার বক্তব্য শুনে উপস্থিত জনতাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বক্তব্যে আমীরে জামায়াত বলেন- মাওলানা আবদুস সোবহান শুধু পাবনাবাসীর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের নেতা ছিলেন। আপনারা তাকে সবচাইতে ভালভাবে জানেন ও চিনেন। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিচারে মাওলানা আবদুস সোবহানকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেন। তার আপীল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এ অবস্থায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চলে গেলেন। আজ আমি পাবনার সর্বস্তরের জনতার সামনে তার লাশ দাফনের পূর্বে জিজ্ঞাসা করতে চাই, তিনি কী দোষী নাকি নির্দোষ? আমীরে জামায়াতের এ প্রশ্নে লাখো জনতা সমস্বরে জবাব দেন, তিনি নির্দোষ। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনেকেই হু-হু করে কেঁদে উঠেন। আমীরে জামায়াত তার বক্তব্যে বলেন, হে আরশের মালিক! তুমি জনতার এ রায় কবুল করে নাও। আমীরে জামায়াত বলেন, মাওলানা আবদুস সোবহান আমাদের নেতা ও শিক্ষক। তিনি আজীবন হকের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি কোনো দিন অন্যায় অসত্যের কাছে মাথা নত করেননি। তার লাশ সামনে রেখে আমরা আল্লাহকে সাক্ষী করে শপথ করছি আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কোনো দিন বাতিলের সাথে আপোষ করব না। আমীরে জামায়াতের এ ঘোষণায় লাখো জনতা সমস্বরে চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় দারুল আমান ট্রাস্ট ময়দান জনতার আবেগ-অনুভূতিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। অত:পর মরহুমের ছোট ছেলে হাফেজ মাওলানা মুজাহিদুল ইসলামের ইমামতিতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে পাবনা শহরের নিকটস্থ আরিফপুর কবরস্থানে মরহুমের মা ও স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। সেখানে তিনি শান্তিতে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন।

মাওলানা আবদুস সোবহানের সাথে আমার ছাত্র জীবন থেকে সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিল। সেই সময় বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও ছাত্রশিবিরের কাজে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে আসতে হতো। তখন দেখা হলে কাছে বসিয়ে আন্তরিকতার সাথে আলাপ করতেন এবং শিবিরের খোঁজ-খবর নিতেন। আমি জামায়াতে আসার পর আরো ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে উনার পরামর্শ নিতাম। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবক। একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসাবে উনার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দ্বারা আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। তখনকার সময়ে আমি ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারীর দায়িত্বে ছিলাম। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আয়োজিত সভা-সমাবেশে তিনি কখনো কখনো অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতেন। শ্রোতাদের নিকট উনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় বক্তা। আলোচনা ও বক্তব্যের মাঝে হাসি-রসে ভরা ছোট-ছোট গল্প বলতেন। যা ছিল শিক্ষণীয় ও শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণমূলক। তাতে শ্রোতাগণ বেশ অনুপ্রেরণা পেতেন এবং আনন্দ উপভোগ করতেন।

ক্ষমতা ও আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও মাওলানা আবদুস সোবহান সাদাসিদে জীবন যাপন করতেন। জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালে তিনি জাপান সফরে গিয়েছিলেন। আয়োজকদের মাধ্যমে জানা যায়, সেখানে কোন বিলাসবহুল হোটেলের আতিথেয়তা ও আরাম-আয়েশ তিনি গ্রহণ করেননি। সংগঠনের ভাইদের দ্বারা পরিচালিত একটি মসজিদে থেকেছেন এ উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মানুষটি। তাঁর ইন্তেকালের পর সেই ঘটনার উপর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস আমার মনে রেখাপাত করেছে। যার কিছু অংশ আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই।

“ছেড়া ব্যাগ নিয়ে বাংলাদেশী এম.পির জাপান সফর” ‼

“মিছবাহ! ব্যাগের চেইনটা ছিড়ে গেছে, কোন সুতা বা তার দিয়ে কি বেঁধে দিতে পার”? কথাগুলো জাপান সফররত একজন খ্যাতিমান পার্লামেন্টারিয়ানের!!! ২০০৫ সালের মে মাসের ৬ তারিখ রাতে জাপানের সাইতামা সিটির গামো, কোশিগায়া বায়তুল আমান মসজিদের দু’তলায় রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে পাশাপাশি বিছানায় শুতে যাওয়ার আগ মুহুর্তে, শ্রদ্ধেয় এটিএম মিছবাহুল কবির ভাইকে জোড়াতালি লাগানো পুরনো ব্যাগ ঠিক করে দিতে কথা গুলো বলছিলেন। বর্তমান সময়ে একজন এম.পি দূরে থাকা তার পিএসও বিদেশ ভ্রমনে জাপান এসে মসজিদে থাকবেন!!! জিপার ছেড়া, তালি যুক্ত ব্যাগ নিয়ে জাপান ভিজিট সেতো এ যুগের বিস্ময়!!

অবিশ্বাস্য হলেও আমি নিজে এই ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। প্রবাসের প্রথম রাতেই এই মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পেয়েছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। ক্ষমতা, অর্থ, সুযোগ-সুবিধা পেয়েও খোলাফায়ে রাশেদার অর্ধ পৃথিবীর শাসকদের বিনয়, নির্মোহতা, সাদামাটা লাইফ স্টাইলের সেই সোনালী ইতিহাসের হুবহু অবিকল প্রতিচ্ছবি এই মরহুম-মাগফুর। মহান আল্লাহ তাআলা যেন হযরত ওমর (রা:) এর এই সুযোগ্য উত্তরসূরি, ৯০ বছর উর্ধ্ব অশীতিপর মজলুম এই জননেতাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ আসন দান করেন- আমিন”।

পাবনা সদর ও সাথিয়া-বেড়া (আংশিক) দুইটি পাশাপাশি সংসদীয় আসন। সদর আসনের ৫ বার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন হযরত মাওলানা আবদুস সোবহান। তিনি এমন এক অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যার বহুমুখী যোগ্যতা ও গুণাবলী তাঁকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। তিনি নিজেই যেন একটি ইতিহাস। একজন প্রখর মেধাবী ছাত্র হিসাবে সকল পরীক্ষায় তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। কর্মজীবন শুরু করেছেন শিক্ষকতার পেশা দিয়ে। একজন বিজ্ঞ আলেম হিসাবে তার দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন এবং সকল প্রতিষ্ঠানে সততা, দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে মাওলানা আবদুস সোবহান ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী জনমানুষের প্রিয় নেতা ও সমাজসেবক। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে একেবারে তৃণমূল থেকে রাজনীতি ও নির্বাচনী কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পাঁচ-পাঁচবার জাতীয় সংসদের সদস্য রূপে দেশের আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে যা সাধারণ কোন রাজনৈতিক নেতার জীবনে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তাঁর জীবনের অন্যতম মিশন ছিল জনগণের সেবা করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বৃত্তিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার জনগণকে সুশিক্ষিত করে তোলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অসহায় মানুষের সেবা করে তাদের দুঃখ কষ্ট লাঘব করা ছিল তার জীবনের ব্রত।

এ সব কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে তিনি দেশে-বিদেশে একজন আদর্শ সেবক ও দ্বীনের দায়ী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন এবং এলাকার জনগণের মনে প্রিয় মানুষ হিসাবে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর এ সুনাম, খ্যাতি ও আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে বর্তমান সরকার তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। বয়োবৃদ্ধকালে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সেবা-সুশ্রুষা ও মায়া-মমতা থেকে তাঁকে বঞ্চিত রেখেছে। শুধু তাই নয়, কারাজীবনে তিনি অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অবর্ণনীয় ও অমানুষিক কষ্ট ভোগ করেছেন। অবশেষে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী জুমাবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে বন্দী অবস্থায় বেলা ১টার সময় ৯২ বছর বয়সে তিনি মহান আল্লাহর সানিধ্যে চলে গেছেন। তিনি আর কোন দিন আমাদের মাঝে ফিরবেন না। কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তাঁর রেখে যাওয়া অসংখ্য অবদান চির জাগরুক হয়ে থাকবে। তাঁর অমূল্য কীর্তির মাঝে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

আজ মন ভরে দোয়া করি হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা মাওলানা আবদুস সোবহানকে শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন। তাঁর ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিন। তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন। তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন। তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনকে ধৈর্য্য ধারণের তৌফিক দিন। তিনি জীবনে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে যে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন তাঁর পরিবার পরিজনও যেন সে পথেই এগিয়ে এসে কার্যকর ভূমিকা পালন ও অবদান রাখতে পারে এ তৌফিক দিন, আমিন।